
মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ‘আজম খানের ব্রিকফিল্ড’ নামে একটি ইটভাটা বছরের পর বছর ধরে সব ধরনের আইন ও বিধি লঙ্ঘন করেও বহালতবিয়তে চালু রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়েই আজম খান প্রভাবশালী হিসেবে আইনকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে জড়িত ছিলেন। পাহাড় কাটা, অবৈধ কাঠ চোরাকারবারসহ নানা কর্মকাণ্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ ও কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। অভিযোগ অনুযায়ী, শতভাগ অবৈধভাবে পরিচালিত ওই ইটভাটাটিতে— সরকার বা জেলা প্রশাসকের কোনো অনুমতি নেই,পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, বনের কাঠ পোড়ানোর ক্ষেত্রে বনবিভাগের অনুমোদন নেই,একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একেবারে সন্নিকটে ইটভাটাটি অবস্থিত, টিনের চিমনি ব্যবহার করে ইট পোড়ানো হচ্ছে, পার্শ্ববর্তী পাহাড় কেটে সেই মাটি দিয়েই ইট প্রস্তুত করা হচ্ছে, এবং ইট পোড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কাঠ।
সম্প্রতি হাইকোর্ট দেশের সব অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ ও ধ্বংসের নির্দেশনা দিলেও ‘আজম খানের ব্রিকফিল্ড’ এখনো প্রকাশ্যে চালু রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও কীভাবে একটি অবৈধ ইটভাটা নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন, বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর এ বিষয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ ইটভাটাটি বন্ধসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।