
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক বিশেষ অঞ্চল। এখানে ১২টি ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে, যাদের সংস্কৃতি, জীবনধারা ও ভাষার বৈচিত্র্য বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত। তবে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য।
ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ
পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংঘাত, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দলের আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি দীর্ঘদিনের সমস্যা। সেনাবাহিনী পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাস, অপহরণ, নারী নির্যাতন ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত নির্মূল করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর নিরলস কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ নিরাপদ থাকতে পারছে।
দূর্গম এলাকায় তড়িৎ চিকিৎসা সেবা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা
সেনাবাহিনী দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাসপাতালে পৌঁছানো দুষ্কর হওয়ায় তৎপরভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকে। ডায়রিয়া, দুর্ঘটনা, সশস্ত্র সংঘাতে আহত ব্যক্তি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্তদের সেনা সদস্যরা দ্রুত চিকিৎসা ও ত্রাণ পৌঁছে দেন। ২০১৭ সালের ভয়াবহ পাহাড় ধস ও বান্দরবানের বন্যার সময় সেনাবাহিনী শত শত পরিবারকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর ও খাদ্য-সামগ্রী সরবরাহ করেছে।
পর্যটন ও পরিবেশের ভারসাম্য
সেনাবাহিনী পাহাড়ে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে যেমন নীলগিরি, চিম্বুক, কেওক্রাডং, সাজেক, রুমা-বগালেকসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। এই উদ্যোগ স্থানীয় যুবকের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষা ও দারিদ্র বিমোচন
সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় স্কুল, কলেজ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করছে। খাতা, কলম, বই ও নগদ অর্থের মাধ্যমে হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া গরু-ছাগল, সেলাই মেশিন, কৃষি যন্ত্রাদি ও অন্যান্য সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর অবদান
পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষা, সন্ত্রাস নির্মূল, ত্রাণ ও চিকিৎসা প্রদান, পর্যটন বিকাশ, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র বিমোচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ের জনগণের পাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই উপস্থিতি না থাকলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও নিরাপত্তা অकल्पনীয়।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।