1. thpshopbd@gmail.com : admin :
নবীনগরে আহমেদ হাসপাতালে প্রসূতির মৃ/ত্যু: শালিসে ১১ লাখ টাকায় সমাধান, তদন্তের আগেই হাসপাতাল চালু নিয়ে প্রশ্ন - probahonewstv
April 30, 2026, 10:39 am

নবীনগরে আহমেদ হাসপাতালে প্রসূতির মৃ/ত্যু: শালিসে ১১ লাখ টাকায় সমাধান, তদন্তের আগেই হাসপাতাল চালু নিয়ে প্রশ্ন

Reporter Name
  • Update Time : Friday, April 10, 2026
  • 46 Time View

নবীনগরে আহমেদ হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু: শালিসে ১১ লাখ টাকায় সমাধান, তদন্তের আগেই হাসপাতাল চালু নিয়ে প্রশ্ন
মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বেসরকারি আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে প্রসূতি রাকিবা আক্তার (২০)-এর মৃত্যুর ঘটনায় শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকায় সমাধান হয়েছে। তবে তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় হাসপাতালের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু তদন্ত শেষ ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
শালিসি সভার সভাপতি মো. খবির উদ্দিন মাস্টার জানান, সর্বসম্মতিক্রমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে ১১ লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ টাকা মৃত প্রসূতির নবজাতক পুত্র সন্তানের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করা হবে এবং বাকি ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজনের মধ্যে সমানভাবে (প্রতি পক্ষ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে এই অর্থ গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, এই অর্থ নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ‘নয়ছয়’ হওয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে, রাকিবার পরিবার এখনো নবীনগর থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা দায়ের করেনি। রাকিবার বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, তাদের সঙ্গে লড়াই করার সামর্থ্য নেই। আমাদের মেয়ে আর ফিরে আসবে না—আল্লাহই বিচার করবেন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতালের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হলে ভবিষ্যতে নিরাপদ চিকিৎসা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তারাও কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, “তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবার আইনের সহায়তা চাইলে পুলিশ সহযোগিতা করবে।”
তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে জমা দেবেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল মধ্যরাতে প্রসব ব্যথা নিয়ে রাকিবা আক্তারকে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। তবে অপারেশনের কিছুক্ষণ পরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঠিক তথ্য গোপন রেখে তড়িঘড়ি করে রোগীকে অন্যত্র পাঠানোর চেষ্টা করে। রাকিবার মা রেহেনা আক্তার বলেন, “গাড়িতে তোলার সময়ই সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি, আমার মেয়ের শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তখনই বুঝি, অপারেশনের পরই সে মারা গেছে।”
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

See also  সাদুল্লাপুর মোলং বাজারে রমরমা জুয়ার আসর: সর্বস্বান্ত স্থানীয়রা, নির্বিকার প্রশাসন

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category