
মোহাম্মদ হানিফ, সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ
ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামীর দেওয়া তালাকের ঘটনায় আলোচিত গৃহবধূ বিবি জোহরার পাশে দাঁড়িয়েছেন তারেক রহমান। তার পরামর্শে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর সহযোগী প্ল্যাটফর্ম আমরা বিএনপি পরিবার-এর একটি প্রতিনিধি দল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয় এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। ঘটনাটি ঘটেছে ফেনী সদর উপজেলা-র ধর্মপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায়। তালাকপ্রাপ্ত বিবি জোহরা বর্তমানে তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
প্রতিনিধি দলের সফর ও সহায়তার ঘোষণা
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি জোহরার বাড়িতে যায়। সেখানে তারা তার বর্তমান অবস্থা, সন্তানদের পড়াশোনা ও আর্থিক সংকটের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেয়। মিথুন বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারটির পাশে থাকা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে সন্তানদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব ও আবু তালেব, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, ফেনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভুঁইয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাছির উদ্দীন খন্দকার, সদস্য সচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, সদস্য আহসান সুমন এবং ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
তালাকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী ইসমাইল হোসেন কাউসার ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিবি জোহরাকে তালাক দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তালাকটি শরিয়তসম্মতভাবে কার্যকর হয়েছে কিনা, তা যাচাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, যদি তালাক কার্যকর হয়, তবে বিবি জোহরা ও তার তিন সন্তানকে পুনর্বাসনের আওতায় আনতে হবে। তাদের জন্য মাসিক ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত বা ভোটাধিকারকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিচ্ছেদ সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং এটি মানবিক ও আইনি দিক থেকে গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। এদিকে বিএনপি সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এটি কেবল রাজনৈতিক ইস্যু নয়; বরং একজন অসহায় নারী ও তার সন্তানদের মানবিক সুরক্ষার প্রশ্ন। তাই দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়েও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বিবি জোহরা তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও, বিভিন্ন মহলের সহায়তার আশ্বাসে কিছুটা আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।