
রহস্যে ঘেরা কাহালগাঁও বাজারে হামলা মামলা আটক
মো:মাহবুবুল আলম বিভাগীয় ব্যুরো চীফ ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার কাহালগাঁও বাজারে সিপির মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে হামলা মামলার রহস্যের ঝট যেন তীব্র আকার ধারণ করছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, ফুলবাড়িয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল কাইয়ুম। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোট ছয় জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ এপ্রিল( ২০২৬ ইং তারিখ রোজ মঙ্গলবার) রাত দশটার সময় উপজেলার কাহালগাঁও বাজারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল বহিরাগত ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় হামলাকারীরা একটি প্রাইভেট কার ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় স্থানীয় মুরগির ফার্ম নারিসে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে এ হামলা করা হয়। হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি তিনটি টেইলার্সের দোকান থেকে নগদ অর্থ, কাপড়-চোপড় লুটপাট ও কিছু জিনিসপত্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এক দোকানের মালিক খোকন মিয়া জানান, উনার দোকান থেকে অন্যান্য মালামালের পাশাপাশি আটটি সেলাই মেশিন হামলাকাররা নিয়ে যায়।
ঘটনার তিনদিন পর মামলার বাদী কাইয়ুম তালুকদারের কর্মচারী মো :হাসান (৩০)এর নেতৃত্বে গার্মেন্টস কর্মী মোহাম্মদ আতিক( ৩৫) এর সহযোগিতায়, স্থানীয় সিএনজি চালক মোহাম্মদ জসিমের (৩০)দুটি সেলাই মেশিন বিক্রির উদ্দেশ্যে কাহালগঁাও থেকে ভালুকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় জনতা সেলাই মেশিন সহ উথুরার আকন্দবাড়ীর সম্মুখে দুজনকে আটক করে। বিষয়টি টের পেয়ে গার্মেন্টস কর্মী মোহাম্মদ আতিক পালিয়ে যায়। এ সময় উৎসুক জনতা জসিম এবং হাসানকে আটক করে উথুরা ইউনিয়ন পরিষদে আবদ্ধ করে রাখে।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় লোকজনের সাথে হাসান স্বীকার করেন যে, ঘটনার দিন বাজারের খোক মিয়ার টেইলার্সের দোকান থেকে কাইয়ূম এর ওপর এক কর্মচারী মোহাম্মদের( ৩২) সহযোগিতায় দুটি সেলাই মেশিন নিয়ে মুরগির লেয়ারে লুকিয়ে রাখে।
অতঃপর ভালুকা মডেল থানায় বিষয়টি অবগত করা হলে পএস আই মোশারফ এর নেতৃত্বে দুইজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে এবং তাদেরকে ভালুকা থানায় নিয়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর অবস্থা তৈরি হয়েছে। অনেকে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াত নেতাকর্মীদেরকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এ হামলা এবং মামলাটি করা হয়। গাদের দাবি বিষয়টি অতি দ্রুত সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। সেই সাথে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।