
মোহাম্মদ হানিফ,সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ
ফেনী-৩ আসনের একটি কেন্দ্রে মাত্র ২৫ ভোটের ব্যবধানে ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতের দিকে সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
২৫ ভোটের ব্যবধান, এরপরই উত্তেজনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাইকপাড়া কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ২৫ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ফল ঘোষণার পরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের আশপাশের বাড়িঘরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী বগাদানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জাবেদ অভিযোগ করে বলেন, “মাত্র ২৫ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করায় তারা আমার বাড়ি ও দোকানে হামলা চালায়। আমার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, সোনাগাজীর বগাদানা ইউনিয়ন সভাপতি আবদুল হাইয়ের বাড়িতেও হামলা হয়েছে। একই কেন্দ্রের জামায়াতের এজেন্ট আতা উল্লাহর বাবার দোকান এবং কর্মী নূরে এলাহীর দোকানেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মসজিদ থেকে বের হওয়া মুসল্লিদের ওপর হামলার অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, মসজিদে নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় জামায়াতের সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়। কেন্দ্রের এজেন্ট মাসুমের দোকানেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি নেতা ইউসুফ, তুষার, জাবেদ স্বপন ও রুবেলের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তদের অস্বীকার
অভিযুক্ত তুষার মুঠোফোনে বলেন, “আমি জানি না কারা হামলা করেছে। হয়তো বহিরাগত কেউ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।” অন্যদিকে বিএনপি নেতা ইউসুফ বলেন, “ফলাফল ঘোষণার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম, এখনো আছি। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”
পুলিশের বক্তব্য
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, “হামলা-ভাঙচুরের বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আতঙ্কে এলাকাবাসী
স্থানীয়দের দাবি, হামলার সময় এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এতে নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ চরম ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।