1. thpshopbd@gmail.com : admin :
কলা চুরিকে কেন্দ্র করে আলীকদমে সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৫; যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত - probahonewstv
April 27, 2026, 8:15 pm

কলা চুরিকে কেন্দ্র করে আলীকদমে সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৫; যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত

মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ,বান্দরবান
  • Update Time : Monday, January 19, 2026
  • 66 Time View
আলীকদমে কলা চুরিকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলায় ম্রো সম্প্রদায়ের ৫ জন আহত।

ম্রো সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগ, অভিযুক্তরা পলাতক; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কলা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ম্রো সম্প্রদায়ের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জানালী মুরং পাড়ায় জাফর নামের এক ব্যক্তি কলা চুরির অভিযোগে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টায় এলাকাবাসীর হাতে আটক হন। জাফর এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছেলে ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দল গড়ে তুলে ম্রো সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অতীতেও তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্তি পান। জাফরকে আটক করে বেঁধে রাখার খবর তার ছেলে জানতে পারলে কয়েকজন আত্মীয়স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে জোরপূর্বক ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছ থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর ন্যায়বিচারের আশায় ভুক্তভোগীরা আলীকদম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দায়ের করে ফেরার পথে ওই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আলীকদম জোন সদর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে নয়াপাড়া ইউনিয়নের বাবু পাড়া এলাকায় জাফর, তার ছেলে ও আরও ৫-৬ জন ব্যক্তি ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অমর ত্রিপুরা (৫৫), ডাংইয়া ম্রো (৫৩), খনং ম্রো (৫৫), লাংচিং ম্রো (৩৩) ও অংচং ম্রো (৩০) আহত হন। আহতদের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে অমর ত্রিপুরা, ডাংইয়া ম্রো ও খনং ম্রোকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ শনিবার ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে আলীকদম জোনের একটি বিশেষ টহল দল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালালেও তারা আগের রাত থেকেই পলাতক থাকায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে বাঙালি ও মুরং সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয় এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়।

See also  বান্দরবানের লামা থানাধীন গজালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার

এ ঘটনায় ম্রো সম্প্রদায়ের ভুক্তভোগীরা আলীকদম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ০৩, তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আলীকদম জোনের বিশেষ টহল দল পুনরায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযুক্তরা এখনও পলাতক থাকলেও তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ অপরাধমূলক ও বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা; এর সঙ্গে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সম্পর্ক নেই। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি ও মুরং সম্প্রদায়ের মানুষ সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নেই এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category