
মোঃ রেজাউল হক রহমত
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপিতে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে উপজেলা ও জেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা সরাসরি মাঠে নেমে মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।
গত দুই সপ্তাহে নবীনগরে বিভক্ত বিএনপির দুই পক্ষে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ পালনের মাধ্যমে বিরোধ প্রকাশ পাওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
সবশেষ বুধবার নবীনগর হাইস্কুল মাঠে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত ৭ নেতা একত্রে জনসমাবেশ করে এম এ মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এম এ মান্নান গত ১৭ বছর শেখ হাসিনার আমলে মাঠের রাজনীতিতে ছিলেন না। তাই তাকে মনোনয়ন দিলে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না এবং নির্বাচনেও ফলাফল বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
সমাবেশে উপস্থিত ৭ নেতা হলেন: কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদীর হোসেন মো. জসিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সায়েদুল হক সাঈদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সালাহ উদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক কেএম মামুন অর রশিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু এবং নবীনগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল করিম।
জনসমাবেশ থেকে ঘোষিত হয়, আগামী ২২ নভেম্বর এম এ মান্নানের নির্ধারিত পাল্টা জনসমাবেশ বাধা দিতে মাঠে থাকবে বঞ্চিত নেতারা।
নেতারা জানান, মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে আন্দোলন কর্মসূচি আরও কঠোর হবে।
অন্যদিকে অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান আশা প্রকাশ করে বলেন,
“২২ নভেম্বরের সমাবেশের পর আমার অভিমানী ভাইরা আর ভিন্ন মত পোষণ করবেন না। ইনশাআল্লাহ, সবাই ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হবেন এবং তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করবেন।”
নবীনগরে বিএনপির চলমান দ্বন্দ্ব সামাল দেওয়া এখন কেন্দ্রীয় বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সব নজর এখন ২২ নভেম্বরের জনসমাবেশের দিকে—যেখানে নির্ধারিত হতে পারে ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথচিত্র।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।