
মোহাম্মদ সানাউল্লাহ,এভিয়েশন করেসপন্ডেন্ট
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে আকাশপথ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় কাতার এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন উপসাগরীয় এয়ারলাইনের বহর এখন ইউরোপের সবচেয়ে বড় স্টোরেজ হাব—স্পেনের তেরুয়েল বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মাস গ্রাউন্ডিং: ২১ মার্চের মধ্যে ২০টিরও বেশি বিমান
সংঘাতের কারণে ফ্লাইট সূচি ভেঙে পড়ায় অন্তত ২০টি উড়োজাহাজ ২১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে তেরুয়েল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগই কাতার এয়ারওয়েজের মালিকানাধীন ওয়াইড-বডি বিমান।
প্রধান অপারেটর: কাতার এয়ারওয়েজ
কাতার এয়ারওয়েজ ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১৭টি ওয়াইড-বডি জেট তেরুয়েলে সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
* Airbus A330
* Airbus A350
* Airbus A380
* Boeing 787 Dreamliner
এগুলো মূলত দোহা, কায়রো, লন্ডন হিথ্রো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন রুট থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে।
কেন এই স্টোরেজে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আকাশপথে ঝুঁকি তীব্রভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে—
* ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
* পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এয়ারস্পেস বন্ধ
* ফ্লাইট রুট পরিবর্তন ও সূচি বিপর্যয়
এই পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনের জন্য বহরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ছাড়া কার্যত অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।
তেরুয়েল বিমানবন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব
স্পেনের আরাগন প্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত তেরুয়েল বিমানবন্দর ইউরোপের সবচেয়ে বড় বিমান সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এর বৈশিষ্ট্য—
* শুষ্ক, লবণমুক্ত আবহাওয়া—দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য আদর্শ
* ২৫০টি ওয়াইড-বডি এবং ৪০০টি ন্যারো-বডি বিমান রাখার সক্ষমতা
* কোনো বাণিজ্যিক যাত্রী ফ্লাইট পরিচালিত হয় না—ফলে বিমান দীর্ঘ সময় টারমাকে রাখা যায়
* কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও এখানে ১৪০টির বেশি বিমান সংরক্ষিত ছিল
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর কি হতে পারে বাংলাদেশের ‘তেরুয়েল’?
যাত্রী নেই, ফ্লাইট নেই—তবু রানওয়ে আছে, জায়গা আছে, অবকাঠামো আছে।
স্পেনের তেরুয়েল বিমানবন্দর যেমন শুধু বিমান সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়, ঠিক তেমনভাবেই ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে ব্যবহার করা যেতে পারে বহর সংরক্ষণের জন্য।
সম্ভাব্য সুবিধা—
১) শুষ্ক আবহাওয়া
২) নিম্ন জনঘনত্ব
৩) নিরাপদ অবস্থান
৪) অব্যবহৃত অবকাঠামো
৫) দেশের তুলনামূলক উঁচু এলাকা
যেখানে A330, Dash-8 বা পুরনো F28 বিমান নিরাপদে রাখা যাবে, রক্ষণাবেক্ষণ করা যাবে এবং প্রয়োজনে আবার অপারেশনে আনা যাবে।
এটি শুধু অপচয় রোধ নয়, এটি হতে পারে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে নতুন কৌশলগত পরিকল্পনার শুরু।
বিমান সংরক্ষণে মাসিক খরচ
* ন্যারো-বডি (A320, B737): মাসে প্রায় $5,000–$10,000
* ওয়াইড-বডি (A330, B787): মাসে প্রায় $10,000–$20,000
* বড় ওয়াইড-বডি (A350, B777): মাসে প্রায় $15,000–$25,000
* A380 সুপারজাম্বো: মাসে $20,000–$30,000+
কেন খরচ বেশি হয়?
* জায়গা দখল
* নিয়মিত ইঞ্জিন ও সিস্টেম চেক
* অ্যান্টি-করোশন প্রটেকশন
* কভার, প্লাগ ও সুরক্ষা সামগ্রী
* টোয়িং ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং
বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য লাভ
* অব্যবহৃত বিমানবন্দর থেকে স্থায়ী আয়
* স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি
* রক্ষণাবেক্ষণ শিল্প গড়ে ওঠা
* আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের সাথে নতুন সম্পর্ক
* উত্তরবঙ্গের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা করা গেলে শুধু বিমান সংরক্ষণ থেকেই বছরে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব
Probaho News TV — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।