
আবু বক্কর ছিদ্দিক
স্টাফ রিপোর্টার, ফেনী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের আমানত ও ভোটে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলে পরদিন ১৩ তারিখ থেকেই দেশে দুর্নীতির চিত্র আমূল পরিবর্তন করা হবে। তিনি বলেন, “দেশের নব্বই শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অবশ করে দেওয়া হবে। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার মা—তা দেখা হবে না। আমরা সেদিন নির্দয়, নিষ্ঠুর ও কঠোর হবো।” শুক্রবার ফেনী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত যুব সমাজের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে। যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে, তাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’, দ্বিতীয় ভোট হবে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের পক্ষে। তিনি বলেন, “আমরা পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি চিরতরে মুছে দিতে চাই। রাজার ছেলে রাজা হবে—এই সংস্কৃতি আমরা মানি না। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন রিকশাচালকও তার যোগ্যতায় এমপি কিংবা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াত চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। কৃষক, পরিবহন মালিক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা আজ চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ। প্রশাসনের অবহেলা কিংবা কিছু ক্ষেত্রে যোগসাজশের কারণেই এসব অপরাধ দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী দিনে রাজনীতি ও চাঁদাবাজি একসঙ্গে চলতে দেওয়া হবে না। যারা রাজনীতির আড়ালে চাঁদাবাজি করবে, তাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সে সময় শাসকগোষ্ঠী আমাদের বোনদের ওপরও আঘাত করতে দ্বিধা করেনি। শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, “সে বুক পেতে বলেছিল—‘বুক পেতেছি, গুলি কর’। সে পালিয়ে যায়নি। তার রক্ত আমাদের কাছে আমানত। এই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য ও ন্যায়বিচার, আর সেটাই প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।” পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মাঘ মাসে শীত নেই, বর্ষায় বৃষ্টি নেই। কেন নেই? কারণ যারা দেশ পরিচালনা করেছে, তারা প্রকৃতির ওপর জুলুম করেছে, প্রকৃতিকে লুণ্ঠন করেছে। এই হঠকারী আচরণের মূল্য আজ পুরো জাতিকে দিতে হচ্ছে।” চাঁদাবাজদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজরা বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতেই হবে।”
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ টি এম মাসুম, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদেক কায়েম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুক্তি আবদুল হান্নান। আরও বক্তব্য রাখেন ফেনী-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন, ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত ‘আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি)’–এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ, ফেনী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ কে এম সামছুদ্দিন, শহর জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র শিবির ফেনী শহর সভাপতি ওমর ফারুক এবং জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল। সমাবেশে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জনসভা শেষে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ফেনীতে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে তৎকালীন হাসিনা সরকারের ক্যাডারদের গুলিতে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।