
প্রতারক চক্রে প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত: ছাগলনাইয়ায় ঋণপ্রতারণার অভিযোগ
মোহাম্মদ হানিফ, ফেনী জেলা প্রতিনিধি
শিরোনামের সারমর্ম: ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ‘সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ নাম ধরে এনজিও পরিচয়ে এক প্রতারক চক্র সদস্য সংগ্রহ করে টাকা নিয়ে ইউধিয়ে গেছে; বর্তায় তদন্ত চলছে ও ভুক্তভোগীরা ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে ‘‘সহজ শর্তে ঋণ’’ দেওয়ার প্রলোভনে একটি দল সদস্য সংগ্রহ করে এবং অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মোটামুটি ২০০ জনের কাছ থেকে সদস্য ফি হিসেবে প্রতি জন ২০০ টাকা করে নেওয়া হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে বড় অংকের জমা নেয়ার বিনিময়ে ঋণের আশ্বাস দেওয়া হয়—কিন্তু প্রতিশ্রুত ঋণ বিতরণ না করে কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ হয়ে গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারকরা তালিকাভুক্ত সদস্যদের কাছে সঞ্চয়-বই ও কাগজপত্র দেয়; এতে যে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ঢাকার ঠিকানা দেখানো হয়েছে (০৪৩৯/১৯৯০, ডি-ব্লক, মিরপুর-২), তা ভুক্তভোগীরা পরে যাচাই করে বৈধ নয় বলে মনে করেন। তারা বলছেন, ১১ হাজার টাকা জমা দিলে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে—এমন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল; কিন্তু নির্ধারিত দিনে অফিসে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। কিছু ভুক্তভোগীর উদাহরণ দেওয়া হলো—বাঁশপাড়া গ্রামের রত্না বেগম জানান, ১৬ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৫৩ হাজার টাকা নেয়া হয়; রাধানগরের মো. টিপু ২২ হাজার, জেসমিন জাহান ২২ হাজার ও আনজুম আরা ৬০ হাজার টাকা হারিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, মোট আনুমানিক হিসেবে প্রায় পঞ্চাশ লাখ নয়—প্রমাণভিত্তিকভাবে তারা বর্তমানে বের করে জানিয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে চেয়ে পাওয়া যায়। (সংখ্যান হিসেবে ভুক্তভোগীদের মতানুযায়ী)। অভিযোগ করে বলা হচ্ছে, প্রতারকরা স্থানীয়দের ‘সামছুল হক ম্যানশন’ নামক একটি স্থানে অফিস দেখিয়েছেন; কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেখানে কেউ উপস্থিত ছিলেন না এবং সংস্থার দেয়া মোবাইল নম্বরগুলোও বন্ধ পাওয়া গেছে। হতাশ ও বিকলপ্রায় অনেক মানুষ তখনই থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেয়।এই পরিস্থিতিতে আনজুম আরা বেগম ছাগলনাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গিয়ে মামলা করেছেন। থানা সূত্রে জানানো হয়েছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার বলেন, “ভুক্তভোগীদের ওই অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে; তদন্ত চলছে। যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়রা অনুরোধ করেছেন—যারা একই ধাঁচের এনজিও/ঋণ প্রয়োগকারী সংস্থা দেখেছেন বা এমন কারও সন্ধান পান, দ্রুত থানাকে অবহিত করবেন যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরাতে এবং ভবিষ্যতে অন্যকে প্রতারণা থেকে রক্ষা করা যায়।