
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমি আক্তার নামে এক তরুণী পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং পাওনা টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ মাস আগে অভিযুক্ত ইলিয়াছ আরাফাতের কাছে সুমি আক্তারের বাবা ১২ হাজার টাকা ধার দেন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ২ হাজার টাকা ফেরত দিলেও অবশিষ্ট ১০ হাজার টাকা দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করেননি। গত ১৯ জুলাই সকালে বকেয়া টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তারা সুমি আক্তারের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় সুমি আক্তারের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ বা মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং উস্কানিমূলক আচরণের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সুমি আক্তার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার বাবার পাওনা টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।