
মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে চলমান দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহতের লক্ষ্যে সম্প্রীতি বার্তাসম্পন্ন লিফলেট বিতরণ ও পথসভা কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, আপস কিংবা নীরবতা আর সহ্য করা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি চিহ্নিত দেশবিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, উসকানি ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আসছে, যা সরাসরি বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর আঘাত।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। এই সত্য অস্বীকারের চেষ্টা করলে তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনগত পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিদেশি স্বার্থ রক্ষায় দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। মুখপাত্র পাইশিখই মারমা জানান, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা কর্মসূচি কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক প্রতিরোধ। প্রতিটি পাড়া, গ্রাম ও পথে পথে দেশবিরোধী অপপ্রচারের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমসি করলে জনগণ নিজেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
সংবাদ সম্মেলনে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াইচিং মং চাক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ হলেও বাস্তবতায় এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত অবহেলা, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতে চরম ঘাটতির কারণে পার্বত্যবাসী মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগ্য শিক্ষক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার অভাবে একটি পুরো প্রজন্ম পিছিয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাও করুণ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা না থাকায় সাধারণ রোগেও মানুষকে জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে হচ্ছে এবং অকাল মৃত্যু নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
উন্নয়নের নামে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে কার্যক্রম চলছে, তা প্রকৃত উন্নয়ন নয় বরং বৈষম্য, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় জনগণকে উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া উন্নয়ন কখনো টেকসই হতে পারে না বলেও উল্লেখ করেন। থোয়াইচিং মং চাক সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দক্ষ ও স্থায়ী জনবল নিয়োগ এবং সকল উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও স্থানীয় জনগণের বাস্তব অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই অবহেলা ও বৈষম্যের দায় রাষ্ট্রকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দৈনিক পার্বত্যকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শাহীন আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন, বান্দরবান জেলা কমিটির জিরা বাবু তঞ্চঙ্গ্যা, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির ইসমাইল হোসেন, সমাজকর্মী মোকতার হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।