
মোহাম্মদ হানিফ সহব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগ
ফেনী নদীর উপর নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী এই সেতু সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতা; জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত উদ্যোগ চায় স্থানীয়রা ফেনী নদীর উপর নির্মিত ঐতিহাসিক শুভপুর ব্রীজ একসময় ফেনী ও চট্টগ্রামের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেতুবন্ধন হিসেবে পরিচিত ছিল। ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলা এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সীমান্তবর্তী এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় ফেনী শহর থেকে করেরহাট–রামগড় সড়ক হয়ে বারইয়ারহাট পর্যন্ত যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল শুভপুর ব্রীজ। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করত। তবে পরবর্তীতে ফেনীর মহিপাল থেকে বাইপাস সড়ক হয়ে বারইয়ারহাট সংযুক্ত হওয়ায় শুভপুর ব্রীজ দিয়ে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে যায়। ফলে ধীরে ধীরে অবহেলার কারণে সেতুটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির সংস্কারের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিষয়টি বারবার ঝুলে যাচ্ছে। যেহেতু সেতুটি দুই জেলার সীমানায় অবস্থিত—একদিকে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা এবং অন্যদিকে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা—তাই দুই প্রশাসনের মধ্যে দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ঠেলাঠেলির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এর ফলে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের এই অনীহা বা সমন্বয়হীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—দুই প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার দায় কি সাধারণ জনগণকে বহন করতে হবে? উল্লেখ্য, শুভপুর ব্রীজ শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিবাহী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই সেতু এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি সংঘটিত হয়েছিল বলে স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। ফলে সেতুটি শুধু অবকাঠামোগত দিক থেকেই নয়, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ হিসেবেও সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি রাখে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ হানিফ এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ও কার্যনির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব আবুল কাশেম এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা শুভপুর ব্রীজ দ্রুত সংস্কার করা না হলে এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
তারা আরো বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন সেতু ও সড়ক নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি অবহেলিত থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে। তাই বিষয়টি দ্রুত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সরকার দলের সেক্রেটারি ও যোগাযোগ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেছেন, ফেনীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সমাবেশ ও উন্নয়ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও শুভপুর ব্রীজের সংস্কারের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তাদের দাবি, বিলম্ব না করে দ্রুত শুভপুর ব্রীজের সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, অন্যদিকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনও সংরক্ষিত থাকবে। স্থানীয়দের আশা, সরকারের উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে এবং শুভপুর ব্রীজ আবারও নতুন রূপে মানুষের সেবা দিতে পারবে। তাদের বিশ্বাস, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং ঐতিহ্যবাহী এই সেতুর সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবে।
Probaho News TV — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।