
শিশির আহমেদ
স্টাফ রিপোর্টার, ধামরাই
উত্তরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা হত্যা মামলার ৩৬৯ নং আসামি হিসেবে চিহ্নিত ধামরাই পৌর আওয়ামী লীগ ৪ নং ওয়ার্ডের নেতা আরফান মিয়া—কে ধামরাই থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, এর আগেও বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতনামা আসামি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরফান মিয়া একসময় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মালেকের পক্ষে প্রচারণা চালাতেন এবং পরে ধামরাই পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। পরবর্তীতে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদেরও ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত হন।
বহু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অভিযোগ করেছেন— “আরফান প্রকৃত রাজনীতি করে না, সুবিধাবাদী চিন্তায় যার দিকেই সুবিধা পায়, সেদিকেই চলে যায়।”
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন— “একজন বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা কীভাবে বিএনপির ভেতরে স্থান করে নিল?” তাদের অভিযোগ, “এ ধরনের পল্টিবাজ রাজনীতিবিদরা বিএনপির ভেতরে ঢুকে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করে তার দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।”
সম্প্রতি হত্যা মামলায় শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ধামরাইয়েও একাধিক গাড়ি পোড়ানো হয়। পুলিশ ধারণা করছে, সেই নাশকতা ঘটনার সঙ্গেও আরফান জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্তের আওতায় এসেছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, গ্রেপ্তারের পর থানায় বসে আরফান মিয়া পৌর বিএনপির এক শীর্ষ নেতাকে ফোন দিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। ঘটনাটি ধামরাই জুড়ে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে— “মামলার নথি, তদন্ত ও জবানবন্দির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।