
আবু বক্কর ছিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টার ,ফেনী
মানবাধিকার সুরক্ষায় CEHRLA-এর কার্যক্রম ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ; মানবতার পক্ষে দায়িত্বশীল ভূমিকায় অনুপ্রেরণা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মাহমুদের আজ ১০ ডিসেম্বর। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। মানবতার মর্যাদা, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সমতার সার্বজনীন অঙ্গীকারকে স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য—“আমাদের অধিকার, আমাদের ভবিষ্যৎ এখন”—মানবাধিকারের ন্যায্য প্রয়োগ ও সুরক্ষার প্রতি বিশ্ববাসীকে নতুন করে দৃষ্টি ফেরানোর আহ্বান জানায়। ফেনীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা CEHRLA–এর উদ্যোগে মানবাধিকারের আলো সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে শুরু হয়েছে নিশ্চিত পরিবর্তনের যাত্রা। এ উপলক্ষে ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হানিফ মানবাধিকারের গুরুত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য তুলে ধরেন।
“ফেনীর প্রতিটি ঘরেই পৌঁছে যাবে মানবাধিকার সেবা”—পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ
এক বক্তব্যে তিনি বলেন—
“ফেনী জেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কার্যক্রম পৌঁছাতে পারলেই আমাদের কাজের সার্থকতা আসবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের জন্মগত অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিতে প্রতিটি সচেতন নাগরিকের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, মানবাধিকার সুরক্ষায় CEHRLA–এর কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী বছরে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে—যার মাধ্যমে নির্যাতিত ও প্রান্তিক মানুষের দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মাহমুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ তাঁর বক্তব্যে CEHRLA-এর মাননীয় চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মাহমুদ–এর প্রশংসা করে বলেন—
“এই মহান পেশায় আমাকে সম্পৃক্ত করার জন্য এবং মানবসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি স্যারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁর মানবিক নেতৃত্ব, সঠিক দিকনির্দেশনা ও ত্যাগী ভাবনা আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন আজ বৈশ্বিক উদ্বেগের প্রধান কারণ। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, মানবপাচার, বৈষম্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা—এ সবই সমাজকে পিছিয়ে দিচ্ছে। তাই এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। মানবাধিকার রক্ষা সমষ্টিগত দায়িত্ব—একতাই সাফল্যের চাবিকাঠি
জনাব হানিফ বলেন—
“মানবাধিকার রক্ষা কারো একক দায়িত্ব নয়; রাষ্ট্র, সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত আন্দোলনই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে। অধিকার বাঁচলে মানুষ বাঁচবে; মানুষ বাঁচলে ভবিষ্যৎ বাঁচবে।”
তিনি দেশের সকল— মানবাধিকার কর্মী,সাংবাদিক,আইনজীবী,শিক্ষক,সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিক —এসব পক্ষকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে ফুটে ওঠে মানবিক সমাজ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়। মানবতার মর্যাদা রক্ষায় এক অঙ্গীকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে CEHRLA ফেনী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় মানবাধিকার সংক্রান্ত পরামর্শ, আইনি সহায়তা, নারী ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক প্রচারণা এবং মানবপাচার প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পরিচালক হানিফের ভাষায়—
“চলুন, মানবাধিকারের আলো ছড়িয়ে দিই সমাজের প্রতিটি কোণে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গড়াই হোক আমাদের আজীবনের অঙ্গীকার।”আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়—এটি মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার শপথ। ফেনীতে CEHRLA–এর উদ্যোগ ও নেতৃত্ব ভবিষ্যতে মানবাধিকার সুরক্ষায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা যায়।