
মির্জাপুরে ঘর আছে কিন্তু মাটি নেই।
রিহান সিকদার, স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল।
টাঙ্গাইল মির্জাপুরে প্রভাবশালী মাটি খেকোদের থাবায় ভিটেমাটি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে প্রতিবন্ধী শামছুল আলম ও তার পরিবার। প্রতিবাদ করায় উল্টো জুটছে মামলা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।
প্রভাবশালীদের অবৈধ মাটি কাটার বলি হয়েছেন অসহায় প্রতিবন্ধী দিনমজুর। উপজেলার পলাশতলী নামাপাড়া গ্রামে প্রভাবশালীদের মাটি লুটের ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন নিঃস্ব শামছুল আলমের পরিবার। প্রতিবাদ করায় উল্টো মামলার আসামি হতে হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারকে। তথ্য জানিয়েছে বি এম ইউসুফ।
নামে মাত্র দাঁড়িয়ে আছে টিনের ছাপড়া ঘরটি। ঘরের মেঝের অর্ধেকের বেশি অংশ এখন গভীর খাদ। উপজেলার পলাশতলী নামাপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী দিনমজুর শামছুল আলমের মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিয়েছে স্থানীয় মাটি খেকো চক্র।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে প্রতিবেশী প্রভাবশালী নেতা ও তার সহযোগীরা শামছুলের ঘরের পিছনের পুকুর থেকে ভেকু দিয়ে গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যায়। বারবার বাধা দিলেও তোয়াক্কা করেনি তারা। উল্টো গায়ের জোরে মাটি কাটায় এখন ভিটেমাটি হারিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটছে শামছুলের। তিনি আরো বলেন
“আমি অনেক হাতে-পায়ে ধরছি মাটি না কাটতে, কিন্তু তারা শোনে নাই। এখন আমার থাকার জায়গা নাই। বিচার চাইলে উল্টো আমাগো নামে মামলা দিছে। আমি এখন পরিবার নিয়া কই যামু?”
এলাকাবাসী বলছেন, প্রভাবশালী ওই চক্রের কাছে জিম্মি পুরো এলাকা। তাদের দাপটে স্থানীয় প্রশাসনও যেন অসহায়। ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া এই দিনমজুর পরিবার এখন প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
মাটি খেকোদের এই দৌরাত্ম্য থামবে কবে? আর ঘর হারানো শামছুল কি ফিরে পাবেন তার মাথা গোঁজার ঠাঁই? এই প্রশ্নই এখন পুরো মির্জাপুরবাসীর কাছে এলাকাবাসীর।