
বন্যায় বিপর্যস্ত আলীকদমে আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গম এলাকায় নিরলস স্বাস্থ্যসেবা: মানবিক দায়িত্বে চিকিৎসক-নার্সদের প্রশংসনীয় ভূমিকা
মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য বসতবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রসহ নিরাপদ স্থানে।
এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন সমতল ও দুর্গম এলাকায় গিয়ে বন্যার্ত মানুষের দোরগোড়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।
আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গম এলাকায় অবস্থানরত নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণদের জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, চর্মরোগ, পানিবাহিত রোগসহ বন্যা-পরবর্তী বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের এই সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক সেবা তাদের জন্য অনেক স্বস্তির।
দুর্গম এলাকায় গিয়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগকে তারা সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আশ্রয়কেন্দ্র সংলগ্ন নয়াপাড়া মডেল কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন শেষে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন,
“বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সমন্বয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আশ্রয়কেন্দ্র এবং দুর্গম এলাকায় গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন। আমরা বন্যা-পরবর্তী রোগবালাই প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছি। যতদিন প্রয়োজন, মানুষের পাশে থেকে এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন,
“দুর্যোগকালে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত না হয়ে বিশুদ্ধ পানি পান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্র অথবা ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত এ উদ্যোগে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় এ ধরনের মানবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।