
ফেনীতে যুবদলের কমিটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক: হামলা মামলার আসামিকে সাধারণ সম্পাদক করায় ৬ নেতার পদত্যাগ
মোহাম্মদ হানিফ সহব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগ
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় অভিযুক্ত সুজনকে ঘিরে ক্ষোভ; ‘অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’—দাবি সংশ্লিষ্টদের
ফেনী পৌর যুবদলের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণার পরপরই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও দলীয় অস্থিরতা। খালেদা জিয়া-র গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে সাধারণ সম্পাদক করায় ক্ষুব্ধ হয়ে নবগঠিত কমিটির ৮ সদস্যের মধ্যে ৬ জন একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
গত ৩০ এপ্রিল ৮ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় গাজী এনামুল হক সুজনকে। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পরপরই তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়টি সামনে এলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
মামলার পটভূমি
জানা গেছে, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় সুজনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হয়, যেখানে ২৮ জনকে আসামি করা হয়। সেই তালিকায় সুজন ২৫ নম্বর আসামি।
এ মামলাটি দায়ের করেন যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন। মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ মোট ১৭৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ফেনী সদর আমলি আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
পদত্যাগ ও ক্ষোভ
ঘটনাটি সামনে আসার পর শনিবার (২ মে ২০২৬) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কমিটির বাকি ৬ সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারী নেতারা জানান, “দলের নেত্রীর ওপর হামলার মামলার আসামির অধীনে রাজনীতি করা আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।”
তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে গাজী এনামুল হক সুজন বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের একজন সক্রিয় ও পরীক্ষিত কর্মী।
দলীয় প্রতিক্রিয়া
ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, “সুজন একজন পরীক্ষিত কর্মী। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতারা অবগত আছেন।”
সার্বিক পরিস্থিতি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেনীতে যুবদলের অভ্যন্তরে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে তৃণমূলের ক্ষোভ—দলীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তদন্তাধীন মামলার ফলাফল এবং দলীয় হাইকমান্ডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে এই সংকটের ভবিষ্যৎ।