
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদের মানুষের নিরাপদ, সহজ ও নিয়মিত যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনা জোন ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (১৭ ইসিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে একটি চাঁদের গাড়ি ও একটি নৌকা সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার ২ আগস্ট ২০২৬: আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ সংকটে থাকা পোয়ামুহুরী, পাহাড়ভাঙ্গা ও সিন্দুমুখ এলাকার হাজারো মানুষের জন্য নিরাপদ, স্বল্প ব্যয়ী ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াতের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ নির্ভরযোগ্য যানবাহন ও নৌযান সেবার অভাবে নানাবিধ দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছিলেন।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোত এবং দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ত। অনেক সময় জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিলম্ব হতো এবং কৃষকদের অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হতো। নতুন এই সেবা দীর্ঘদিনের এ সমস্যার কার্যকর সমাধান হিসেবে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৭ ইসিবি-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আল হাসান, পিএসসি।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মনজুরুল আলম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা।
উদ্বোধনকৃত চাঁদের গাড়িটি প্রতিদিন আলীকদম–পোয়ামুহুরী–আলীকদম রুটে দুইবার নিয়মিত চলাচল করবে। পাশাপাশি নৌকাটি পোয়ামুহুরী–পাহাড়ভাঙ্গা–সিন্দুমুখ নৌপথে প্রতিদিন দুইবার সেবা প্রদান করবে। এ সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, শিক্ষায় অংশগ্রহণ, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে যাতায়াত ব্যয়ও কমিয়ে আনা হয়েছে। আগে চাঁদের গাড়ি ও নৌযানের ভাড়া ৩০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে স্বল্প খরচে দুর্গম সীমান্ত এলাকার মানুষ সহজেই এসব সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রধান অতিথি লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের কল্যাণে নিবেদিত।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সেবাদ্বয় স্থানীয় জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবিকা এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ সময়োপযোগী উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আলীকদম সেনা জোন ও ১৭ ইসিবি-এর অব্যাহত অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্যাঞ্চলসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।