
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, আজগানা, লতিফপুর, বাঁশতৈল এবং তরফপুর ইউনিয়নের মাঝে শাল বন আসলেই প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি
রিহান সিকদার, স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল।
উপজেলায় মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এই শাল বন (যা গজারির বন নামেও পরিচিত) যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এক দারুণ আশ্রয়। এর মধ্যে হাটুভাঙা শালবন বিস্তৃণ ও বড়। ঢাকা থেকে তুলনামূলক কাছে হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকার কারণে অনেকেই ছুটির দিনে একটু বুক ভরে অক্সিজেন নিতে এখানে ছুটে আসেন।
এক সময় এই বনে প্রচুর বন্যপ্রাণী ও পাখির আনাগোনা ছিল। এখনো বনের গভীরে গেলে পাখির কিচিরমিচির শব্দে মন শান্ত হয়ে যায়।
প্রকৃতির নিজস্ব একটা নিরাময় ক্ষমতা আছে। মানুষের তৈরি জটিলতা, সমাজ বা রাজনীতির নোংরামি থেকে দূরে গিয়ে এই বিশাল শাল বনের গাছের ছায়ায় দাঁড়ালে এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি পাওয়া যায়। মাটি কাটার মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ভিড়ে এই ধরনের প্রাকৃতিক বনগুলো টিকে থাকা আমাদের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
উপজেলার শালবন গুলো এখন এক শ্রেণীর অসাধু মাটি খেকো চক্র ও বনের কাঠ পাচারকারীদের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। দিন-রাত সমানতালে বনের ভেতরের লাল মাটি কেটে নেয়া এবং মূল্যবান শাল-গজারী গাছ উজাড় করার ফলে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। মির্জাপুরে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর (বা প্রায় ৩৯,০৪৩ একর) সরকারি বনভূমি রয়েছে। এই বনাঞ্চলগুলোতে মূলত শাল, গজারি, গর্জন, সেগুন এবং আকাশমণি গাছ দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে (কিংবা ম্যানেজ করে) ফরেস্ট রেঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে দেদারসে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটা ও আবাসন প্রকল্পে। বনের মাটি কাটার ফলে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, যার কারণে বর্ষা মৌসুমে ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে হাজার হাজার গাছ। এর পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছে কাঠ পাচারকারী চক্র। রাতের আঁধারে বনের পাহারাদারদের চোখ এড়িয়ে বা বনের ভেতরের নির্জনতার সুযোগ নিয়ে কেটে নেয়া হচ্ছে শতবর্ষী শাল ও গজারী গাছ। এসব কাঠ স্থানীয় করাতকল (স’ মিল) ও বিভিন্ন ইটভাটায় জালানি হিসেবে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বন উজাড় ও অনবরত মানুষের আনাগোনার কারণে বনের বানর, শিয়াল, বুনো শুকরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণী তাদের নিরাপদ আশ্রয় হারাচ্ছে। বনের লাল মাটি কাটার ফলে মাটির ক্ষয় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বনের ভেতরের রাস্তা ও টিলা ধসে পড়ছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও দাবি, দ্রুত এই মাটি কাটা ও কাঠ পাচার বন্ধ না হলে মির্জাপুরের ফুসফুস খ্যাত এই শালবন হারিয়ে যেতে পারে। তারা অবিলম্বে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং নিয়মিত অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।
রেঞ্জ কর্মকর্তার জানান, বন রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাটি কাটা বা গাছ কাটার সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।