
নিজস্ব প্রতিবেদক | আশুলিয়া
ঢাকার আশুলিয়ার পলাশবাড়ী বাজারের উত্তর পাশে সেকেন্দার আলীর বাড়ির তিনটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে শিশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত তাল মিশ্রী উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা দেখতে পান, বাড়িটির ম্যানেজার আলম ও তার স্ত্রী অস্বাস্থ্যকর, নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তাল মিশ্রী তৈরির কাজ করছেন। এ সময় সাংবাদিকদের দাবি, তারা কিছু পণ্যের মোড়ক থেকে পূর্বের মেয়াদের তথ্য অপসারণ করে নতুন মেয়াদ সংযুক্ত করার কাজও করতে দেখেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ও স্থিরচিত্রে ধারণ করা হয়। এ বিষয়ে কারখানার মালিক সালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রায়েরবাগ এলাকায় তার আরও একটি মিশ্রী তৈরির কারখানা রয়েছে। কারখানার সরকারি অনুমোদন, লাইসেন্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভাই, আমার কোনো সরকারি ডকুমেন্ট নাই। এগুলোর জন্য সরকারি কিছু লাগে না।” এদিকে তথ্য সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বাড়ির মালিকের শ্যালক পরিচয় দিয়ে এবং দৈনিক এশিয়া বাণীর স্টাফ রিপোর্টার পরিচয়ে ওবাদুর রহমান কালাম নামে এক ব্যক্তি উপস্থিত সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এটি আমার বোনের বাড়ি, এখানে আপনারা কেন এসেছেন?”
পরে সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাবে ফিরে গেলে ওই ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন, সাংবাদিকরা তালা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেছেন। জবাবে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে জানান, ঘরের তালা বাড়ির ম্যানেজার নিজেই খুলেছেন এবং তথ্য সংগ্রহের আগে বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করা হয়েছিল। এরপরও তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তারপরও আপনারা ওখানে গেলেন কেন?” সাংবাদিকদের অভিযোগ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, পণ্যের মেয়াদ পরিবর্তনের অভিযোগ এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া কারখানা পরিচালনার বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও চাপ প্রয়োগের ঘটনাও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত, কারখানাটির বৈধতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো সরেজমিনে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ, ধারণকৃত ভিডিওচিত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে।