
স্থান: নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | তারিখ: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর পূর্ব পাড়ার উর্বর ত্রি-ফসলি জমিতে ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটছেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ—সরকারি কাজের নামে মাটি উত্তোলনের আড়ালে চলছে জমি ধ্বংস ও বাণিজ্যিকভাবে মাটি বিক্রির মহোৎসব। প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও এ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেজার দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে পাশের জমিগুলো ধসে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না আবেদ আলীর প্রভাবের কারণে।
স্থানীয় এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন— “আমাদের জমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয় না। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের কাছে যাবো।”
তারা অভিযোগ করেন, মাটি কাটার ফলে—
কৃষিজমি কমে যাচ্ছে
খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ও রাস্তা তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে
ড্রেজার মালিক আবেদ আলী বলেন—তিনি নাকি সরকারি অনুমোদন নিয়ে মাঠ ভরাট করছেন। তবে অনুমোদনের কাগজ দেখাতে বলা হলে তিনি জানান— “জুমার নামাজের পর ইউএনও এসে বিষয়টি দেখবেন।”
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব চৌধুরী বলেন— “ফসলি জমি ধ্বংসকারীদের কোনো ছাড় নেই। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আবেদ আলীর সরকারি অনুমোদনের দাবির বিষয়ে তিনি আরও জানান— “এ ধরনের অনুমোদনের বিষয়ে আমি অবগত নই, প্রয়োজনে কাগজ যাচাই করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে—যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তারা জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।