
স্টাফ রিপোর্টার: আবু বক্কর ছিদ্দিক, ফেনী
ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন রুবেল প্রতারণার মাধ্যমে ইউরোপে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় এক যুবকের কাছ থেকে ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার হয়েছেন ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের মোধ্যাই গ্রামের সোহেল ভুইয়া, পিতা কামাল উদ্দিন।
অভিযোগের সূত্রপাত : সোহেল ভুইয়া জানান, ইকবাল হোসেন রুবেল তার সঙ্গে ইউরোপের বেলারুশে পাঠানোর কথা বলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ১১,৭০,০০০ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভিসা বা কোনো নথিপত্র না দিয়ে রুবেল হঠাৎ দেশত্যাগ করেন। ঘটনার পর সোহেল ভুইয়া বিষয়টি লিখিতভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা– এর ফেনী জেলা শাখায় অভিযোগ আকারে জমা দেন।
তদন্তে মানবাধিকার সংস্থা : অভিযোগ পাওয়ার পর ফেনী জেলা শাখার পরিচালক জনাব আবুল কাশেম–এর নেতৃত্বে, উপজেলা কো-অর্ডিনেটর (ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ) মোহাম্মদ হানিফ–এর সমন্বয়ে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের উত্তর ধলিয়া (২নং ওয়ার্ড) এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে।
স্থানীয়দের বক্তব্য : স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, ইকবাল হোসেন রুবেল শুধু সোহেল ভুইয়া নন—এলাকার আরও কয়েকজন যুবকের কাছ থেকেও ইউরোপে নেওয়ার কথা বলে অর্থ নিয়েছেন। একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রুবেল নিয়মিত এলাকায় আসতেন এবং অনেককে ইউরোপে পাঠানোর আশ্বাস দিতেন। টাকা নেওয়ার পর তিনি হঠাৎ উধাও হয়ে যান।”
আইনি পদক্ষেপ : প্রতারিত সোহেল ভুইয়া এ ঘটনায় ১৪ মে ২০২৫ তারিখে ফেনী আদালতে ইকবাল হোসেন রুবেল ও তার পরিবারের সদস্যদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা নং: ১৮৩০/২৫ মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, রুবেলের পিতা আমির হোসেন মেম্বার প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন যে, তার ছেলে কুষ্টিয়া অঞ্চলের একজনের কাছ থেকেও প্রায় ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে শুনেছেন।
অভিযুক্তের পরিবার ও পালানোর তথ্য : দৈনিক প্রবাহ নিউজ২৪-এর এক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমির হোসেন বলেন, “আমার ছেলে প্রায় এক মাস আগে ইউরোপে চলে গেছে বলে শুনেছি। এর বেশি কিছু জানি না। ”স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ইকবাল হোসেন রুবেল বর্তমানে ইউরোপে অবস্থান করছেন এবং বাংলাদেশের একাধিক জায়গা থেকে টাকা নিয়ে গা–ঢাকা দিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করছেন, এটি আন্তর্জাতিক মানবপাচারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রতারণা চক্রের অংশ হতে পারে।
তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।