
দৌলতপুরে ঘর নির্মাণে বাধা, ৫ লাখ টাকা চাঁদার অভিযোগ
আবু বক্কর ছিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টার ফেনী
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন, আতঙ্কে স্থানীয়রা—প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা
ফেনী সদর উপজেলার ৮ নম্বর ধলিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড দৌলতপুর গ্রামে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, নিজ বাড়ির পুরনো ঘর ভেঙে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করতে গেলে আবদুর রাজ্জাক, সাহাব উদ্দিনের ছেলে মুহিব ফারহানসহ কয়েকজন এসে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
এ ঘটনায় ইব্রাহিম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী একটি সংস্থার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবুল কাশেমের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ফেনী মডেল থানাকে আহ্বান জানান।
ইব্রাহিম জানান, “আমি আমার পুরনো ঘর ভেঙে নতুন করে নির্মাণ শুরু করলে তারা এসে সরাসরি কাজ বন্ধ করে দেয়। এমনকি টাকা না দিলে কোনোভাবেই ঘর তুলতে পারব না বলে হুমকি দেয়।” এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মুহিব ফারহান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, মুহিব ফারহান অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান। রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তারা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। প্রতিনিয়ত মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দৌলতপুর এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।