
নবীনগরে রহস্যঘেরা দুই কিশোরের মৃত্যু—একজন গাছে ঝুলন্ত, আরেকজন পুকুরে ভাসমান! প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় একই দিনে দুই কিশোরের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) পৃথক দুটি স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন—পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোপীনাথপুর মনতলা গ্রামের বাসিন্দা বাদল বর্মনের ছেলে আশিক বর্মন (১৬) এবং উপজেলার মহেশপুর গ্রামের মো. খলিল মিয়ার ছেলে আতিকুল ইসলাম (১৯)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশিক বর্মন পেশায় একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে জরুরি কাজের কথা বলে ঘর থেকে বের হলেও আর ফেরেননি। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি আমগাছে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। দ্রুত তাকে নিচে নামিয়ে জীবিত আছে কিনা যাচাই করা হলেও ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে, আতিকুল ইসলাম ঈদুল ফিতরের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তার ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
দুটি ঘটনারই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নবীনগর থানার ওসি (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ জানান, “পৃথক স্থান থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
একই দিনে দুই কিশোরের অস্বাভাবিক মৃত্যু স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আতিকুল ইসলাম কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও কেন দ্রুত কার্যকর অনুসন্ধান জোরদার করা হয়নি—তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। অন্যদিকে আশিকের মৃত্যুর ঘটনাও রহস্যজনক হওয়ায় এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু—তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো নজরদারি ও তৎপরতা বাড়ালে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত।
এলাকাবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
দুই তরুণ প্রাণের এমন করুণ মৃত্যু শুধু পরিবার নয়, পুরো নবীনগরবাসীকেই নাড়া দিয়েছে। এখন সবার চোখ প্রশাসনের দিকে—এই রহস্যের জট খুলবে তো? নাকি থেকে যাবে আরেকটি অমীমাংসিত প্রশ্ন হয়ে?