
বাঙ্গরা বাজারে আধিপত্যের রক্তচাপ: দোকানঘর থেকে ‘মব’ হামলা, পাল্টাপাল্টি মামলায় উত্তপ্ত নবীনগর
মোঃ রেজাউল হক রহমত
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ ফের বিস্ফোরিত হয়েছে। সামান্য একটি দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা মুহূর্তেই সংঘর্ষ, হামলা ও অবরুদ্ধের ঘটনায় রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব কাউছার আলম এবং বর্তমান চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ সমর্থিত রবিউল আওয়াল রবির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সেই পুরনো বিরোধই মঙ্গলবার নতুন করে রক্তচাপ বাড়ায় বাঙ্গরা বাজারে।
ঘটনার দিন সকালে চেয়ারম্যান রবিউল আওয়ালের ভাই শফিকুল ইসলাম বাজারের সরকারি খালি জায়গায় একটি দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় কাউছার আলমপন্থীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উত্তেজিত জনতা ‘মব’ আকারে চেয়ারম্যান রবি ও তার ভাইদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের একটি স্থানে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৌশলে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এতে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার পরদিন বুধবার (২২ এপ্রিল) চেয়ারম্যান রবির স্ত্রী সালমা বেগম বাদী হয়ে শামীম মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে, ঘটনার দিনই (২১ এপ্রিল) শামীম মিয়া চেয়ারম্যান রবিসহ ১০ জনকে আসামি করে পৃথক মামলা করেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে একই ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা করলেও এক পক্ষের তিনজন গ্রেপ্তার হলেও অপর পক্ষের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার না করায় স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—আইন প্রয়োগে সমতা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে?
এলাকাবাসীর মতে, বাঙ্গরা বাজার এখন শুধু একটি ব্যবসাকেন্দ্র নয়, এটি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আধিপত্যের সংঘর্ষমঞ্চে পরিণত হয়েছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।