
ছোট ফেনী নদীর ভয়াবহ ভাঙন: বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মোহাম্মদ হানিফ সহব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগ
জরুরি নদী শাসন, জিওব্যাগ স্থাপন ও ড্রেজিংয়ের দাবিতে শতাধিক মানুষের প্রতিবাদ
ফেনীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া ছোট ফেনী নদীর অব্যাহত তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তীরবর্তী এলাকার মানুষ। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত শত একর ফসলি জমি, বসতভিটা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে রবিবার সকালে নদীর তীরবর্তী ছোট ফেনী নদী সেতু সংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই মানববন্ধনে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু অংশ নেয়। কয়েকশ মিটার এলাকা জুড়ে ব্যানার হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তারা তাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন। ব্যানারে “জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি”সহ নানা স্লোগান লেখা ছিল।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় সাবেক জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা জানান, নদী ভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে এবং আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৪০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর গতিপথ স্বাভাবিক করার দাবি জানান। অন্যথায় পুরো ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদা আক্ষেপ করে বলেন, স্বামী-সন্তানহীন অবস্থায় একটি মেয়েকে নিয়ে কোনোভাবে দিন পার করছেন তিনি। “যদি এই বাড়িটুকুও নদীতে চলে যায়, তাহলে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না,”—কথাগুলো বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও চর চান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন খোকন, চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, বিএনপি নেতা সেলিম রেজা, যুবদল নেতা রায়হান সাব্বির, ব্যবসায়ী আবুল কালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ছোট ফেনী নদীর ভাঙনে পুরো জনপদ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।