
তারাগঞ্জে জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত, প্রধান অতিথি এটিএম আজহারুল ইসলাম
বুলবুল হোসেন, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে দেশের জনগণকে সবসময় সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির এস এম আলমগীর হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির কামরুজ্জামান কবির, তারাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইয়াকুব আলী এবং এমপি প্রতিনিধি প্রভাষক আমিনুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ভারত সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের কথা বললেও বাস্তবে মুসলমানদের নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা জুলাই সনদের পক্ষে ছিলাম, এখনও আছি। সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৭৭ জন সদস্য জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।” তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংস্কার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
ঈদের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি সামাজিক সম্প্রীতি, নৈতিক মূল্যবোধ, সততা, ন্যায়বিচার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা এবং জনগণের পাশে থেকে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঈদ পুনর্মিলনী কেবল সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির অনুষ্ঠান নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তারা দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করেন।
এ সময় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।