
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে এক নারীর দুটি বিয়ে
রিহান সিকদার, স্টাফ রিপোর্টার টাঙ্গাইল।
দুটি তালাকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে, তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের জেরে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল ‘গ্রীন টিভি’র স্থানীয় সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেনকে হত্যা করে (ভাগা দেওয়ার) হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাছিমা বেগম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ২৩ বছরের বৈবাহিক জীবন ও সাজানো সংসার তুচ্ছ করে নাছিমা বেগম পরকীয়া প্রেমের টানে তার প্রথম স্বামীকে তালাক দেন। এরপর প্রথম স্বামীকে তালাক দেওয়ার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু সেই নতুন সংসারও টেকেনি। ১ মাস ১২ দিন অর্থাৎ মাত্র ৪২ দিনের এক অবিশ্বাস্য ও সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানে ওই নারী দুইবার বিয়ে এবং দুইবার তালাকের এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটান।
এলাকাবাসী ও বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণে জানা যায়, পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এক চরম পারিবারিক নাটক ও পরকীয়ার অন্ধ পরিণতি। দ্বিতীয় স্বামীর দাবি, তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে ইচ্ছার বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের কাবিননামা সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্যদিকে এই বিচিত্র ও চাঞ্চল্যকর বিয়ে-তালাকের খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। ঘটনার সত্যতা যাচাই ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অভিযুক্ত ওই নারী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি গ্রীন টিভির মির্জাপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেনকে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেন এবং ‘ভাগা দেওয়ার’ হুমকি প্রদান করেন। এই ঘটনার পর স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, একজন সাংবাদকর্মী কে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাকে এভাবে হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং হুমকিদাতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় মির্জাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে।