
মোঃ রেজাউল হক রহমত,প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ কয়েদির মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর কারাগারে পাঠানো ওই তরুণের নাম আল আমীন। তিনি নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামের মৃত রিপন মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। গণপিটুনি থেকে কারাগার পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর নবীনগর উপজেলার গোপালপুর বাজারে গরু চুরির অভিযোগে নাসিরাবাদ গ্রামের কুদ্দুস মিয়া ও তার শ্যালক আল আমীনকে এলাকাবাসী আটক করে। পরে দুজনকেই প্রকাশ্যে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে নবীনগর থানার এসআই মোবারক হোসেন আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নেন। পরে চুরির মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে পাঠানোর পর আল আমীনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রথমে তাকে জেলা কারাগার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গণপিটুনিতে গুরুতর আহত একজন আসামিকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ছাড়াই কারাগারে পাঠানো কতটা যুক্তিসংগত ছিল—এ প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তার আঘাতের ধরন, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কিংবা সংক্রমণ যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা ও শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইমাম হাসান বাতেন বলেন, আল আমীনের বাবা-মা কেউ জীবিত নেই।
তিনি বলেন, “ছেলেটি এতিম। আমার জানামতে সে ভালো ছেলে ছিল। তার দুলাভাই কুদ্দুস মিয়া অপরাধপ্রবণ হলেও আল আমীনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগে শোনা যায়নি। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার ওবায়দুর রহমান বলেন,
“আল আমীন ঠাণ্ডাজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। তাকে প্রথমে কারাগার হাসপাতালে ও পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।”
নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক জানান,
“গণপিটুনির শিকার হওয়া দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছিল। মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।”
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিচারাধীন কোনো আসামির মৃত্যু রাষ্ট্রের জন্য গুরুতর বিষয়। গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, আহত অবস্থায় একজন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি না এবং কারাগারে চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না—এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব না মিললে এ ধরনের মৃত্যু ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, আল আমীনের মৃত্যুর ঘটনায় একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে গণপিটুনি, চিকিৎসা অবহেলা এবং কারা ব্যবস্থাপনার সব দিক খতিয়ে দেখা হোক।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।