
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় আসা সিফাত আব্দুল্লাহর অভিযোগ তদন্ত করে ভিন্ন তথ্য পেয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। তদন্তে দেখা গেছে, তার পরিবারের বাড়িতে একটি নয়, তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে তিনটি মিটারে মোট বিল এসেছে ১০ হাজার ৬৮১ টাকা।
ঘটনার সূত্রপাত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সিফাত আব্দুল্লাহ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রায় এক মিনিট ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।
ভিডিওতে তিনি বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বেশি আসার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন নিজ বাসা থেকে সিফাতকে আটক করে পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিফাতের করা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বোর্ডবাজার জোনাল অফিস থেকে তৈরি করা তদন্ত প্রতিবেদনে বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিলের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ খাইলকুর এলাকায় সিফাতের বাবা মো. সেকান্দর আলীর নামে থাকা দোতলা বাড়িটিতে মোট তিনটি আবাসিক মিটার রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম মিটার S000433*7-এ মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে এবং বিল এসেছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।
দ্বিতীয় মিটার S000218*5-এ একই সময়ে ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট ব্যবহার হয়েছে। এ মিটারে মোট বিল এসেছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।
তৃতীয় মিটার S000424*7-এ চার মাসে ৬২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে এবং বিল এসেছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।
অর্থাৎ মে, জুন, জুলাই ও আগস্ট—চার মাসে তিনটি মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। এর বিপরীতে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।
তবে সিফাতের ভিডিওতে আলোচিত জুলাই ও আগস্ট মাসের হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ওই দুই মাসে তিনটি মিটারে মোট বিল এসেছে ১০ হাজার ৬৮১ টাকা। এর মধ্যে জুলাই মাসে তিন মিটারে বিল ৬ হাজার ৪০৯ টাকা এবং আগস্ট মাসে ৪ হাজার ২৭২ টাকা।
ফলে পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে দেখা যাচ্ছে, সিফাতের উল্লেখ করা প্রায় ১০ হাজার টাকার অঙ্কটি একেবারে অমূলক নয়; তবে সেটি একটি মিটারের বিল নয়, একই বাড়ির তিনটি আবাসিক মিটারের দুই মাসের সম্মিলিত বিল।
তদন্তের সময় বাড়িতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং একপর্যায়ে বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়ার কথাও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এখন দুটি বিষয় সামনে এসেছে—একদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অশালীন বক্তব্যের অভিযোগে সিফাতের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, অন্যদিকে তার করা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের বাস্তবতা যাচাইয়ে পল্লী বিদ্যুতের তদন্ত।
পল্লী বিদ্যুতের তদন্ত প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, ‘দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিল’—এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনটি মিটারের সম্মিলিত হিসাবের মিল রয়েছে। তবে বিলটি কোনো একক মিটারের নয়—এটাই তদন্তে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।