
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ‘মামলাবাজ’ পরিবারের দাপট, মিথ্যা মামলার যাঁতাকলে কোণঠাসা পুরো গ্রাম
বিশেষ প্রতিনিধি, প্রবাহ নিউজ টিভি
উপজেলার ৩ নং ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া গ্রামে বিপ্লব দেওয়ান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ অভিযোগ। সাধারণ গ্রামবাসীকে একের পর এক সাজানো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সর্বশান্ত করার মাধ্যমে পুরো এলাকাকে তারা এক ত্রাসের রাজত্বে পরিণত করেছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিজেদের অবৈধ স্বার্থ হাসিল এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যে এই পরিবারটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আসছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে এলাকায় অবৈধ মাটি কাটা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী মুরগির খামার স্থাপনের প্রতিবাদ করেন স্থানীয় তরুণ ও সংবাদকর্মী রিহান সিকদার। এরপর থেকেই রিহান সিকদার ও গ্রামের কয়েকজনকে টার্গেট করে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া শুরু হয়।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী রিহান সিকদার বলেন, আমি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। উল্টো অবৈধ কাজের ভিডিও ধারণ করার অপরাধে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। থানায় সাক্ষীদের নিয়ে অভিযোগ করতে গেলে মামলা গ্রহণ না করে আমাদের কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই পরিবারের নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি খোদ জনপ্রতিনিধিও। ফতেপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের এক মহিলা ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, তার স্বামীকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এহেন পরিস্থিতিতে গ্রামের প্রতিটি পরিবার এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিপ্লব দেওয়ানের একটি ব্যক্তিগত ‘ডাঙ্গা বাহিনী’ রয়েছে, যাদের প্রতিটি মিথ্যা মামলায় সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গ্রামের অনেকের নামে বর্তমানে একাধিক মিথ্যা মামলা রয়েছে। ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার আক্ষেপ করে বলেন, মামলার যাঁতাকলে পড়ে আমরা সর্বশান্ত। আদালতের বারান্দায় দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে চাষাবাদ তো দূরের কথা, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনাও বন্ধ হওয়ার পথে। তাদের দাবি, জমি দখল, মিথ্যা মামলা এবং প্রতারণাই এই পরিবারের মূল পেশা।
বিপ্লব দেওয়ান আদালতে রিহান সিকদারসহ অন্যদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মামলা করেছেন, যা গ্রামবাসীদের মতে পুরোপুরি সাজানো নাটক। নথিপত্র পর্যালোচনা ও আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পুরো বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে তাতে যেসব সাক্ষীদের ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই আগে থেকেই হত্যা ও অবৈধ মাটি কাটার মতো গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, তারা কোনো অপরাধ করেননি, কেবল অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করেছেন। অথচ মামলার বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অন্ধকারে। কবে বা কী প্রেক্ষাপটে মামলা দায়ের করা হয়েছে বা পুলিশ কখন তদন্ত করল তার কিছুই তারা জানেন না। কোনো প্রকার নোটিশ বা জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ না দিয়েই তাদের মামলার আসামি করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
গ্রামবাসীর সম্মিলিত দাবি, এই ‘মামলাবাজ’ পরিবারের দৌরাত্ম্য বন্ধে এবং থলপাড়া গ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি।