
স্টাফ রিপোর্টার | প্রবাহ নিউজ টিভি
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় গুরুতর আহত তৌফিক শেখের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষের মধ্যে আহত হওয়ার পর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে গাজীপুরে এসেছিলেন তৌফিক। কাজ করতেন স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায়।
গত সোমবার গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষের দৃশ্য নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেছিলেন তৌফিক। স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই তরুণ।
তৌফিকের মৃত্যুর ঘটনায় হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে দেখা দিয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। স্বজনদের অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও এসেছে ভিন্ন দাবি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের অভিযানে তৌফিক আহত হননি; তাঁকে শ্রমিকরাই মারধর করে আহত করেছেন।
অন্যদিকে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং তৌফিকের ওপর হামলায় কারা জড়িত, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে।
তৌফিকের মৃত্যুর খবরে তাঁর গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার রাতে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাফনের কথা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন, সংঘর্ষ এবং শেষ পর্যন্ত একজন তরুণের মৃত্যু—পুরো ঘটনাটি নতুন করে সামনে এনেছে শ্রমিক আন্দোলনের নিরাপত্তা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন।
তবে তৌফিকের ওপর হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, কী কারণে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল এবং তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
তৌফিকের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও সচেতন মহল।