
“স্বাধীন গণমাধ্যমেই শান্তির ভবিষ্যৎ”—বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসে জোরালো প্রত্যয়
আবু বক্কর ছিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টার ফেনী।
ফেনীর সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফের আহ্বান—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে
আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। প্রতিবছরের মতো এবারও দিনটি নানা আয়োজন, আলোচনা ও সচেতনতা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য—“শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার”—গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।
গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকরা নানা চাপ, হুমকি ও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ফেনী জেলা সংবাদদাতা এবং দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ ও দৈনিক উজ্জ্বল বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, অপরাধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা মাদকসংক্রান্ত খবর প্রকাশ করলেই অনেক সময় সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয়। তিনি বলেন, “গণমাধ্যম স্বাধীন না থাকলে সত্য প্রকাশের পথ সংকুচিত হয়ে যায়। একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে সংবাদ পরিবেশনের ধরণ বদলে গেলেও ভুয়া খবর ও অপপ্রচারের ঝুঁকি বেড়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস শুধু উদযাপনের দিন নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এ দিনে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব, নৈতিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি নতুন করে উপলব্ধি করেন।
“মুক্ত হোক গণমাধ্যম, আদায় হোক অধিকার”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের সাংবাদিক সমাজ আজ আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তাদের প্রত্যাশা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে সমাজে ন্যায়, সত্য ও মানবাধিকারের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।