
দুই মাসেও গ্রেফতার নেই, সুনীল বাঁশফোড় হত্যা মামলায় অগ্রগতি শূন্য—প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন।
সাজেদুল ইসলাম রাসেল বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে নিহত সুনীল বাঁশফোড় (২৩) হত্যা মামলার দুই মাস পার হলেও আসামি গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, শহরের সেউজগাড়ী সুইপার কলোনির বাসিন্দা সন্তোষ বাঁশফোড়ের ছেলে সুনীল বাঁশফোড়কে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের স্টেশন রোড এলাকায় বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে ছুরিকাঘাত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিক নামে এক মাদক কারবারি সুনীলের কাছে ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে অনিক ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুনীলের পেট ও উরুতে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় সুনীলকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সুনীলের বাবা সন্তোষ বাঁশফোড় ১৫ ফেব্রুয়ারি সদর থানায় অনিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে সুনীলের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামি অনিক পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আসামিকে গ্রেফতার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা নেই, ফলে আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের পরও কেন আসামি গ্রেফতারে কোনো অগ্রগতি নেই? প্রশাসনের নীরবতা কি কোনো রহস্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি তদন্তে রয়েছে গাফিলতি—এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।