1. thpshopbd@gmail.com : admin :
গাইবান্ধায় থামছে না সুদের কারবার, আইন ও ইসলামী বিধান উপেক্ষা করে চলছে শোষণ। - probahonewstv
May 3, 2026, 11:53 am

গাইবান্ধায় থামছে না সুদের কারবার, আইন ও ইসলামী বিধান উপেক্ষা করে চলছে শোষণ।

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, April 23, 2026
  • 38 Time View

গাইবান্ধায় থামছে না সুদের কারবার, আইন ও ইসলামী বিধান উপেক্ষা করে চলছে শোষণ।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি, মোঃ বেলাল মিয়া।

গাইবান্ধা জেলায় জেঁকে বসেছে অবৈধ সুদে ঋণ ও মহাজনী কারবার। চড়া সুদের ঘেরাটোপে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অথচ প্রচলিত আইন এবং ইসলামি বিধান অনুযায়ী এই ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লাইসেন্সবিহীন দাদন ব্যবসায়ীরা ঋণের নামে সাধারণ মানুষের সহায়-সম্পদ ও জমির দলিল হাতিয়ে নিচ্ছে, যা দমনে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
আইনি বিধান ও শাস্তির ঝুঁকি
দেশের প্রচলিত ‘অর্থঋণ আদালত আইন’ ও ‘দণ্ডবিধি’ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া চড়া সুদে ঋণ দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো সুদখোর যদি টাকা আদায়ের জন্য ঋণী ব্যক্তিকে হুমকি দেয়, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করে, তবে দণ্ডবিধির অধীনে তার বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা করার বিধান রয়েছে। এছাড়া মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধভাবে সুদের কারবার চালানো এবং ঋণের অজুহাতে দলিল বা চেক আটকে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সুদ খাওয়া, দেওয়া বা এর সাথে জড়িত থাকা ‘কবিরা গুনাহ’ ও হারাম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সুদকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যা সামাজিক বৈষম্য ও শোষণ বৃদ্ধি করে।
প্রতিকার ও আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া
সুদখোরদের হাত থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগীরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নিতে পারেন:
১. জিডি বা এফআইআর: হুমকি বা সম্পদ আটকে রাখলে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) বা এজাহার (FIR) দায়ের করতে হবে।
২. ডিসি বা এসপি অফিসে লিখিত অভিযোগ: হাইকোর্টের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসক (DC) ও পুলিশ সুপার (SP) অবৈধ সুদখোরদের তালিকা তৈরি ও ব্যবস্থা নিতে দায়বদ্ধ। সরাসরি তাদের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া কার্যকর পথ।
৩. আদালতে মামলা (C.R. Case): থানা মামলা না নিলে আইনজীবীর মাধ্যমে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা যায়।
৪. বাংলাদেশ ব্যাংক বা এমআরএ-তে অভিযোগ: কোনো অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান বা সমিতি ক্ষুদ্রঋণের নামে সুদের ব্যবসা করলে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA)-তে অভিযোগ জানানো যাবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
মামলা বা অভিযোগের ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়ার সময় স্বাক্ষরিত কাগজ বা স্ট্যাম্পের অনুলিপি, হুমকির অডিও-ভিডিও রেকর্ড এবং ঘটনার সাক্ষী থাকা জরুরি।
গাইবান্ধার সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান এবং জনসাধারণের আইনি সচেতনতাই পারে এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি দিতে।

See also  তারাগঞ্জে মঞ্জুরুল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও ১,বেরিয়ে আসছে পরিকল্পিত খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category