
মোহাম্মদ হানিফ,সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা শেষ পর্যন্ত বহাল থাকল। তার বিরুদ্ধে আনা দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আপিল খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে মিন্টুর আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। বিরোধী শিবির ও নাগরিক সমাজের একটি অংশের অভিযোগ—সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আইন যেভাবে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, প্রভাবশালী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম দেখা যায়। মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রাখাকে তারা ইসির ‘নমনীয়তা’ কিংবা ‘নতিস্বীকার’ হিসেবেই দেখছেন।
কী ছিল আপিলের বিষয়
মিন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী, যা সংবিধান ও নির্বাচনী আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে আপিল করা হয়। তবে শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন আপিলটি খারিজ করে দেয়। ইসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উপস্থাপিত নথিপত্র ও তথ্য-প্রমাণে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
ইসির সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন আইন প্রয়োগের সমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে। তাদের মতে, নির্বাচন কমিশন যদি সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই মানদণ্ডে আইন প্রয়োগ না করে, তবে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, আইনি লড়াইয়ে প্রমাণই মুখ্য হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতায় প্রভাব ও ক্ষমতার ভূমিকা উপেক্ষা করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত সেই পুরোনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে আনল। সমালোচকদের আরও অভিযোগ, সাধারণ প্রার্থীদের জন্য যেসব নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে মানা হয়, প্রভাবশালী ও বিত্তবান প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সেগুলো শিথিল হয়ে যায়। কেউ কেউ সরাসরি অভিযোগ তুলছেন, এখানে আইনের চেয়ে অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাবই বেশি কার্যকর হয়েছে।
সমর্থকদের পাল্টা বক্তব্য
অন্যদিকে, মিন্টুর সমর্থকরা নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘সত্যের জয়’ হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা প্রমাণের অভাবে টেকেনি। তারা মনে করেন, ইসি আইন অনুযায়ী সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তই নিয়েছে।
ভোটারদের মনে প্রশ্ন
তবে সাধারণ ভোটারদের একাংশের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শিবিরও বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠে অসম প্রতিযোগিতার ধারণা তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে, ফেনী-৩ আসনে মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব ততই স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।
“© 2025 Probaho News tv. All rights reserved.
Address: Zirani, Ashulia, Savar, Dhaka – 1349
Email:
probahonewstv@gmail.com
Ad Contact: +8801888788988”