
মোঃ আমজাদ হোসেন,দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মহোদয়ের নাম ও পুলিশের পোশাক পরিহিত ছবি ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর-০৪ (চিরিরবন্দর–খানসামা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে একটি প্রতারক চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করে। প্রতারকরা দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএম-এর পোশাক পরিহিত ছবি সংবলিত একটি ভুয়া প্রোফাইল ব্যবহার করে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে এবং পরবর্তীতে দুটি বিকাশ নম্বর প্রদান করে। ডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৩টা ৫৫ মিনিটে ঘুঘুরাতলী এলাকার একটি বিকাশ এজেন্টের দোকান থেকে উক্ত দুটি নম্বরে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা পাঠানো হয়। এরপর একই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ১ লাখ টাকা দ্রুত পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হলে এমপি প্রার্থীর সন্দেহ হয়।
পরবর্তীতে প্রদত্ত বিকাশ নম্বরগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্য কোনো উপায়ে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। প্রতারকরা নিজেদের দিনাজপুরের পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে দাবি করে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চিরিরবন্দর থানার আওতায় দুটি স্টিল নির্মিত পুলিশ বুথ স্থাপন করা হবে—একটি ঘুঘুরাতলী এলাকায় এবং অপরটি সুবিধাজনক স্থানে। তারা জানায়, প্রতিটি বুথ নির্মাণ বাবদ ৮৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক খরচসহ সর্বমোট ২ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা “ডোনেশন” হিসেবে প্রদান করতে হবে। ঘটনাটি প্রতারণা বলে নিশ্চিত হলে ভুক্তভোগীর পক্ষে ৫ নম্বর আব্দুলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চিরিরবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারের ভিত্তিতে চিরিরবন্দর থানায় মামলা নং ০২/২০২৬, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১, ২২, ২৪ ও ২৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), দিনাজপুরের কাছে ন্যস্ত করা হয়।
মামলার রহস্য উদঘাটনে ডিবির একটি বিশেষ দল ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন—মোহাম্মদ জুনাইদ খন্দকার (২৪), পিতা মৃত ইদ্রিস খন্দকার, থানা কন্দুয়া, জেলা নেত্রকোনা এবং মো. হিমেল (২৩), পিতা এরশাদ আলী, থানা ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা ময়মনসিংহ। গ্রেপ্তারের সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন, ৫টি সিম কার্ড এবং নগদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৩৫ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা স্বীকার করে জানায়, তারা নিজেদের দিনাজপুরের পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানের সাধারণ মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত। তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের তথাকথিত “পুলিশ কন্ট্রোল রুম”-এর নম্বর সংগ্রহ করে এসপি পরিচয়ে ফোন দিয়ে প্রতারণা করত। ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।
“© 2025 Probaho News tv. All rights reserved.
Address: Zirani, Ashulia, Savar, Dhaka – 1349
Email:
probahonewstv@gmail.com
Ad Contact: +8801888788988”