তারাগঞ্জে মঞ্জুরুল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও ১,বেরিয়ে আসছে পরিকল্পিত খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য
বুলবুল হোসেন,
তারাগঞ্জ প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জে বহুল আলোচিত ইলেকট্রিশিয়ান মঞ্জুরুল হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। মামলার রহস্য উদঘাটনের ধারাবাহিকতায় আরও এক অভিযুক্ত মো. শফিকুল ইসলাম (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনজনে।
রংপুর পুলিশ জানায়, বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) গভীর রাতে রংপুর জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল, তারাগঞ্জ থানার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার নতুন চৌপথি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তিনি উপজেলার ২নং কুর্শা ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শা (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামের মৃত একরামুল হকের ছেলে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে গ্রেপ্তারকৃত প্রধান অভিযুক্ত মো. রাফিউল ইসলাম ওরফে লাভলু (৩২) গত ১৫ মার্চ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ওই জবানবন্দিতে তিনি শফিকুল ইসলাম, মহাব্বত এবং শফিকুলের এক শ্যালক (অজ্ঞাতনামা) মিলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, নিহত মঞ্জুরুলের সঙ্গে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। তবে অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো) সংক্রান্ত টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এই আর্থিক বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা নেয় তারা।ঘটনার প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে থেকেই অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার ছক কষতে থাকে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা একাধিকবার বৈঠকও করে।
মামলার তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিট থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং গলা কেটে নৃশংসভাবে মঞ্জুরুলকে হত্যা করে।
হত্যার পর ঘটনাটি গোপন রাখতে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে তারাগঞ্জ থানাধীন ২ নং কুর্শা ইউনিয়নের রামপুরা মৌজায় জনৈক শাহাদত হোসেন সুজনের আলুর ক্ষেতের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। লাশটি দক্ষিণমুখী অবস্থায় পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।
এ সময় অভিযুক্তরা ভিকটিমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যায়, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তারাগঞ্জ থানার মামলা নং-০৫, তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ধারা ৩০২/২০১/৩৭৯ পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইনের দিকনির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম এ মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে আরও গোপন বিষয় জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম ছাড়াও রাফিউল ইসলাম ওরফে লাভলু (৩২) এবং মো. মাজেদুল ইসলাম (৩২) রয়েছেন। অপর অভিযুক্ত মহাব্বত এখনও পলাতক।
রংপুরের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন বলেন,“এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা আশা করছি, দ্রুতই সবাইকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং ভিকটিমের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।”
গ্রেপ্তারকৃত শফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিনও শফিকুল ইসলামের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে রংপুর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় লোকজন বলেন "এভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকলে তারাগঞ্জ একদিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে দাঁড়াবে।"
বুলবুল হোসেন,
১৯ মার্চ, ২০২৬
“© 2025 Probaho News tv. All rights reserved.
Address: Zirani, Ashulia, Savar, Dhaka – 1349
Email:
probahonewstv@gmail.com
Ad Contact: +8801888788988”